আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সরকারি দপ্তরে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রচারণা। ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যানার, লোগো ও দাপ্তরিক যোগাযোগে বিশেষ বার্তা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গণভোট সম্পর্কে ভোটারদের মধ্যে জনসচেতনতা তৈরির জন্য নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত সব সরকারি যোগাযোগে (পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র) গণভোটের লোগো ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিজ উদ্যোগে দুটি করে ব্যানার প্রিন্ট করে অফিসের সামনে দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। এতে সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
নির্দেশিত দুটি ব্যানারের একটিতে ‘গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন-দেশের চাবি আপনার হাতে’ শিরোনামে গণভোটের মূল বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন আকারে জানানো হয়েছে, তারা কেমন বাংলাদেশ চান। ব্যানারে উল্লেখ রয়েছে, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সরকার এককভাবে ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করা হবে। এ ছাড়া ব্যানারে আরও উল্লেখ রয়েছে- বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে উচ্চকক্ষ গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ প্রভৃতি। মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির যে প্রস্তাব রয়েছে সেটি উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যানারের নিচে গণভোট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যানারটি তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত ও বার্তাভিত্তিক। এতে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে-‘পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ। ব্যানারের উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন-দেশের চাবি আপনার হাতে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ব্যানারের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের কাছে সরাসরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া। সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে-এই বার্তাই সরল নকশা ও সীমিত শব্দের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সচিবালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গণভোট উপলক্ষ্যে নির্ধারিত লোগো ও ব্যানার প্রদর্শনের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার অফিস প্রাঙ্গণের দৃষ্টিনন্দন স্থানে ব্যানার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে গণভোটের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে গণভোটের লোগো ও প্রচার বার্তা যুক্ত করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাজানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটারদের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ কার্যক্রম দ্রুত ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে গণভোট বিষয়ে প্রচারণা চালানোর জন্য বলা হয়েছে। এই প্রচারণা গণভোটের আগের দিন পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
গণভোট নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরে ঝুলবে পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ
- আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৬ ০৬:২৬:০২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৬ ০৬:২৬:০২ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার